এমনিতে দুঃখই ভালো লেখার ক্ষেত্রে সহায়ক ,সুখ নয় কিন্তু ১৪-ই নভেম্বর নিয়ে কিভাবে লিখবো? এ যে প্রিয়জনের মৃত্যু সমান যন্ত্রণা।
অবসর ঘোষণা ইস্তক একটা অদ্ভুত ঘোর ছিল কষ্ট নয়। একটা অবিশ্বাসের ঘোর যে ছোটবেলার একটা অভ্যাস যেন হারিয়ে যাবে চিরতরে। প্রচন্ড ব্যথা-যন্ত্রনা অনুভূতিবোধকে অসাড় করে দেয় , বিষয়টি সেরকমই ছিল। তারপর ইডেনে দু চোখ ভরে শেষবারের মতো যখন লোকটাকে দেখছি তখনও কষ্ট ছাড়িয়ে মুগ্ধতাটাই প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে। মনে আছে মুম্বাই টেস্টেও লোকটার শেষ ইনিংস দেখা পুরোটাই টিভির পর্দা থেকে একবারও চোখ না সরিয়ে। তখন থেকে আস্তে আস্তে আসাড়তা কাটিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠা যন্ত্রণা। শেষদিন গ্যাব্রিয়েলের উইকেটটা পড়ে যাওয়ার পরই বুঝতে পারি শৈশবটা তারুণ্যে গিয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণাটা , সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার যন্ত্রণাটা বাকিটা দেখতে পারিনি। টিভি বন্ধ করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। অদ্ভুত দম বন্ধ অবস্থায় কয়েক ঘন্টা পর বাড়িতে ফিরে লাস্ট স্পিচটা দেখতে দেখতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সেই শেষ ক্রিকেটে আগ্রহ হারিয়েছি ওদিনই এখন পরে আছে নেহাত অভ্যাস ।
ফোনের স্ক্রিন, গ্যালারী ,ল্যাপটপ জুড়ে এখনও লোকটার সগর্ব ও সদর্প উপস্থিতি। মাঝের সময়টা ভালোবাসা কমেনি বরং বেড়েছে আগের চেয়ে। সময় ক্ষতে প্রলেপ দিয়েছে হয়তো কিন্তু ভালোবাসায় আবরণী হয়ে উঠতে পারেনি কোনোদিনও। শুধু আমার নয় আমার মতো অনেকেরই। ঐ যে অনুপম বলেছেন না -
" যদি কেড়ে নিতে বলে কবিতা ঠাসা খাতা
যেন কেড়ে নিতে দেবো না.."
যেন কেড়ে নিতে দেবো না.."
প্রতিরাতে 'গ্রাস করা চোরাবালিতে' তলিয়ে যেতে যেতেও এভাবেই অটুট থাকুক 'শিকড়ে বাঁধা মাটি', হ্যাঁ এভাবেই।
[ পুনশ্চ : অদ্ভুত মানসিক যন্ত্রনার মধ্যেই তালগোল পাকিয়ে যাওয়া একটা লেখা উৎসর্গীকৃত থাক আমার ভগবানের জন্যই]

No comments:
Post a Comment