Friday, 13 October 2017

পৃথিবীর দশটি নিষিদ্ধ সিনেমা -শোভন নস্কর

                   

আমরা অনেকেই সিনেমা ভালবাসি বহু ধরনের সিনেমার কথাও জানি কিন্তু সব সিনেমা সবার জন্য নয় এজন্য ব্যান হয়েছে প্রচুর সিনেমা আজ সেইরকমই দশটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা করব

১০ ক্লক ওয়ার্ক ওরেঞ্জ (১৯৭১) এই সিনেমাটি গ্রেত বিটেনে প্রায় ২৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল কারন অত্যধিক হিংসা এবং পাশবিক ধর্ষনের দৃশ্য ছিল পরিচালক কিন্তু বিখ্যাত স্ট্যানলি কুবরিক মজার ব্যাপারটা হল সারা বিশ্বে সিনেমাটা কিন্তু প্রশংসিত

দ্য বার্থ অফ এ নেশন(১৯১৫সাইলেন্ট মুভি এটা ছিল পৃথিবীর প্রথম মুভি যার সিক্যুয়েল ছিল কিন্তু এই সিনেমায় কৃষ্ণাঙ্গদের বিরোধিতা করার জন্য ব্যান করা হয় পরিচালক অবশ্য এর জন্য ক্ষমা চান

দ্য টিন ড্রাম(১৯৬৯) কানাডা ও ফিলাডেলফিয়ায় সিনেমাটা নিষিদ্ধ কারন এখানে ১১ বছরের ছেলের সাথে ১৬ বছরের মেয়ের সেক্স দেখানো হয়েছে অনেকে বলেছেন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি কিন্তু সিনেমাটি কিন্তু বিদেশি বিভাগে অস্কার জিতে নিয়েছিল

থ্রি হান্ড্রেড (২০০৬) ব্যাপক হিট হওয়া এই সিনেমাটি আমরা হয়ত অনেকেই দেখেছি কিন্তু আমরা জানি না সিনেমাটি আরব এবং ইরানে নিষিদ্ধ করা হয় কারন তাদের নাকি সিনেমাটায় ছোট করা হয়েছে !

অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০) সিনেমাটা হিটলার ও নাৎসি বাহিনীর বিপক্ষে তৈরি তাই অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে বহুদিন সিনেমাটা নিষিদ্ধ ছিল যদি কেউ সিনেমাটা জার্মানীতে দেখত তাহলে তার ওপর ব্যাপক অত্যাচার করা হত

 সালো/হানড্রেড টোয়েন্টি ডেজ অফ সোডোম (১৯৭৫) পাওলো পাসোলিনির এই সিনেমাটা নিষিদ্ধ করা হ ইরান সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটা দেশে । সিনেমায় দেখানো হয় চার দুস্কৃতি কয়েকজন শিশু ও লোককে অপহরন করে তাদের উপর অত্যাচার ও ধর্ষন করে । যা অত্যন্ত খারাপ দৃশ্য বলে পরিচিত ।

৪। দ্য সিম্পসন মুভি (২০০৭) অত্যন্ত জনপ্রিয় কার্টুন মুভি অনেকেই হয়ত দেখেছেন কিন্তু এই সিনেমাটাও কিন্তু ব্যান হতে হয়েছিল বার্মা সরকারের কাছে । কারনটা কেন জানেন ? বার্মায় হলুদ রঙ নিষিদ্ধ । আর সিম্পসনের গায়ের রঙ ছিল হলুদ ।

৩।ব্যাক টু দ্য ফিউচার (১৯৮৫,৮৯,৯০) টাইম ট্রাভেল এবং কমেডি নিয়ে তৈরি এই সিনেমাগুলো সবার প্রায় দেখা কিন্তু এটা নিষিদ্ধ ছিল চীনে । তার কারন চীনা সংস্কৃতিতে ভবিষ্যৎ দেখা বারণ । তার ওপর সিনেমাটায় নাকি প্রচুর কুসংস্কার আছে !

২। লাস্ট ট্যাংগো ইন প্যারিস (১৯৭৩) এই সিনেমাটি সাহসী ইরোটিক । কিন্তু নিষিদ্ধ করা হয় ইতালি ও স্পেনে কারন সিনেমায় নায়ক মার্লন ব্রান্ডো নায়িকার শরীরে মাখন মাখাচ্ছিলেন । খাবারের জিনিসকে এইভাবে দেখানো এদেশে অপরাধ ছিল ।

১। ক্যানিব্যাল হলোকাস্ট (১৯৮০) একটা ফেক ডকুমেন্টারির উপর সিনেমাটা বানানো হয়েছিল যেখানে ক্যানিব্যালিজম দেখানো হয়েছিল । যা দেখে সিনেমাহলে অনেকেই অসুস্থ বোধ করতেন । তাই নিষিদ্ধ করা হয় বিশ্বের ৪০টা দেশে ।

  সব শেষে বলব ‘সার্বিয়ান ফিল্ম’ সিনেমাটার কথা । যেটা সারা বিশ্বে অত্যন্ত ঘৃনিত হয়েছে । আমার কোন শত্রুকেও সিনেমাটা দেখার কথা বলতে পারিনা । স্বয়ং আমেরিকাতে হল মালিকরা বাধ্য হয় সিনেমাটা তুলে দিতে । সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সিনেমাটা নিষিদ্ধ ।



1 comment:

  1. লক্ষ্য করার বিষয় নিষিদ্ধ মানেই যৌনতার কারণে বা খুন যখমের কারণে নয়। খাবার নষ্ট করার মতো ব্যাপারও আছে। সেই সময়ের মানে ব্যান হওয়ার সময়কার সেন্সিবিলিটিটাও ছবিগুলির আলোচনায় ধরা পড়ে।

    ReplyDelete

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...