আমরা
অনেকেই সিনেমা ভালবাসি । বহু
ধরনের সিনেমার কথাও জানি । কিন্তু সব সিনেমা সবার জন্য নয় । এজন্য ব্যান হয়েছে প্রচুর সিনেমা । আজ সেইরকমই দশটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা
করব ।
১০। ক্লক ওয়ার্ক ওরেঞ্জ (১৯৭১) এই সিনেমাটি গ্রেত বিটেনে প্রায় ২৭ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল কারন অত্যধিক হিংসা
এবং পাশবিক ধর্ষনের দৃশ্য ছিল । পরিচালক কিন্তু বিখ্যাত স্ট্যানলি কুবরিক । মজার ব্যাপারটা হল সারা বিশ্বে সিনেমাটা
কিন্তু প্রশংসিত ।
৯। দ্য বার্থ অফ এ নেশন(১৯১৫) সাইলেন্ট মুভি । এটা ছিল পৃথিবীর প্রথম মুভি যার সিক্যুয়েল
ছিল । কিন্তু এই সিনেমায় কৃষ্ণাঙ্গদের
বিরোধিতা করার জন্য ব্যান করা হয়। পরিচালক অবশ্য এর জন্য ক্ষমা চান ।
৮। দ্য টিন ড্রাম(১৯৬৯) কানাডা ও ফিলাডেলফিয়ায় সিনেমাটা নিষিদ্ধ । কারন এখানে ১১ বছরের ছেলের সাথে ১৬
বছরের মেয়ের সেক্স দেখানো হয়েছে । অনেকে বলেছেন চাইল্ড পর্ণগ্রাফি । কিন্তু সিনেমাটি কিন্তু বিদেশি বিভাগে
অস্কার জিতে নিয়েছিল ।
৭। থ্রি হান্ড্রেড (২০০৬) ব্যাপক হিট হওয়া এই সিনেমাটি আমরা হয়ত অনেকেই দেখেছি কিন্তু আমরা জানি না সিনেমাটি
আরব এবং ইরানে নিষিদ্ধ করা হয় । কারন তাদের নাকি সিনেমাটায় ছোট করা হয়েছে !
৬।অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০) সিনেমাটা হিটলার ও নাৎসি বাহিনীর
বিপক্ষে তৈরি । তাই অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে
বহুদিন সিনেমাটা নিষিদ্ধ ছিল । যদি কেউ সিনেমাটা জার্মানীতে দেখত তাহলে তার ওপর ব্যাপক অত্যাচার
করা হত ।
৫। সালো/হানড্রেড টোয়েন্টি
ডেজ অফ সোডোম (১৯৭৫) পাওলো পাসোলিনির এই সিনেমাটা নিষিদ্ধ করা হ ইরান সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটা
দেশে । সিনেমায় দেখানো হয় চার দুস্কৃতি কয়েকজন শিশু ও লোককে অপহরন করে তাদের উপর
অত্যাচার ও ধর্ষন করে । যা অত্যন্ত খারাপ দৃশ্য বলে পরিচিত ।
৪।
দ্য সিম্পসন মুভি (২০০৭) অত্যন্ত জনপ্রিয় কার্টুন মুভি অনেকেই হয়ত দেখেছেন কিন্তু
এই সিনেমাটাও কিন্তু ব্যান হতে হয়েছিল বার্মা সরকারের কাছে । কারনটা কেন জানেন ?
বার্মায় হলুদ রঙ নিষিদ্ধ । আর সিম্পসনের গায়ের রঙ ছিল হলুদ ।
৩।ব্যাক
টু দ্য ফিউচার (১৯৮৫,৮৯,৯০) টাইম ট্রাভেল এবং কমেডি নিয়ে তৈরি এই সিনেমাগুলো সবার
প্রায় দেখা কিন্তু এটা নিষিদ্ধ ছিল চীনে । তার কারন চীনা সংস্কৃতিতে ভবিষ্যৎ দেখা
বারণ । তার ওপর সিনেমাটায় নাকি প্রচুর কুসংস্কার আছে !
২।
লাস্ট ট্যাংগো ইন প্যারিস (১৯৭৩) এই সিনেমাটি সাহসী ইরোটিক । কিন্তু নিষিদ্ধ করা
হয় ইতালি ও স্পেনে কারন সিনেমায় নায়ক মার্লন ব্রান্ডো নায়িকার শরীরে মাখন
মাখাচ্ছিলেন । খাবারের জিনিসকে এইভাবে দেখানো এদেশে অপরাধ ছিল ।
১।
ক্যানিব্যাল হলোকাস্ট (১৯৮০) একটা ফেক ডকুমেন্টারির উপর সিনেমাটা বানানো হয়েছিল
যেখানে ক্যানিব্যালিজম দেখানো হয়েছিল । যা দেখে সিনেমাহলে অনেকেই অসুস্থ বোধ করতেন
। তাই নিষিদ্ধ করা হয় বিশ্বের ৪০টা দেশে ।
সব শেষে বলব ‘সার্বিয়ান ফিল্ম’ সিনেমাটার কথা ।
যেটা সারা বিশ্বে অত্যন্ত ঘৃনিত হয়েছে । আমার কোন শত্রুকেও সিনেমাটা দেখার কথা
বলতে পারিনা । স্বয়ং আমেরিকাতে হল মালিকরা বাধ্য হয় সিনেমাটা তুলে দিতে । সারা
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সিনেমাটা নিষিদ্ধ ।

লক্ষ্য করার বিষয় নিষিদ্ধ মানেই যৌনতার কারণে বা খুন যখমের কারণে নয়। খাবার নষ্ট করার মতো ব্যাপারও আছে। সেই সময়ের মানে ব্যান হওয়ার সময়কার সেন্সিবিলিটিটাও ছবিগুলির আলোচনায় ধরা পড়ে।
ReplyDelete