সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাবার পুরোনো দম দেওয়া ঘড়িটায় সময় দেখে নেয় পল্টু।
"ইশ, ছটা বেজে গেল!"-বলেই তাড়াহুড়ো করে উঠে বসে বিছানায়।পাশে এখনো ঘুমে অচেতন তার পাঁচ বছর বয়সের বোন টিয়া।তাকে না ডেকেই বিছানা ছেড়ে নেমে পড়ে পল্টু।
পল্টু চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে। তখন বোনের বয়স মাত্র তিন মাস। মাও নেই বছর দুই হলো। পল্টুর স্মৃতিপটে বাবা মায়ের স্মৃতি কিছুটা থাকলেও টিয়ার বাবার কথা কিছুই মনে নেই। মায়ের কথাও একটু আধটু মনে পড়ে টিয়ার।এখন পিতৃমাতৃহীন ভাইবোন অযত্নে মানুষ হচ্ছে মামা মামীর কাছে। পরিবর্তে অবশ্য সংসারের অনেক কাজই করতে হয় দুজনকেই।বাড়তি পাওনা মামীর মুখের অকথ্য গালিগালাজ। মামাও মামীর ভয়ে কাঠ হয়ে নীরবে দেখে চলেন সবকিছু।
আজ রাখিবন্ধন।তাই পল্টু অনেকদিন ধরেই বাজার খরচের টাকা থেকে একটু একটু করে খুচরো জমিয়ে সাত টাকা জমিয়েছিল। কিন্তু বোনকে মাত্র এই কটা টাকাই কি বা কিনে দেবে সে! তাই কাজলকাকুকে বলে কিছু কমদামি রাখি বাকিতে আনিয়ে রেখেছিল বিক্রি করবে বলে। সেগুলো নিয়ে মামা মামীর অলক্ষ্যে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে পল্টু। সাতটা টাকা মনে করে প্যান্টের পকেটে নিয়েই বেরিয়েছে সে।
"দিদি রাখি নেবে?"-এক পথচলতি কলেজছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করে পল্টু।
"কত করে?"-শোনে মেয়েটি।
"এক টাকা করে দিদি"-বলে সে।
"দুটো দাও।"
ছোট্ট পল্টুর কাছ থেকে হয়তো বা এমনিই দুটো রাখি কিনে নেয় মেয়েটি।
পল্টু এগিয়ে চলে বড় রাস্তার দিকে।আরো কিছু রাখি বিক্রি করে সে।আর মাত্র কয়েকটা রাখিই আছে তার কাছে। আরো দুটো রাখি বিক্রি হয়।রাস্তার পাশের পরোটার দোকানের ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নেয় পল্টু। ঘড়িতে তখন পৌনে সাতটা।আর দেরী করা যাবেনা। মামী ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাসনগুলো মেজে দিতে হবে প্রতিদিনের মতন। নইলে আর রক্ষে থাকবেনা। হাঁটতে হাঁটতেই গুনে নেয় কটা রাখি বাকি আছে। আর মাত্র পাঁচটা। এগিয়ে যায় পল্টু।এক ভদ্রলোক ডাকে পল্টুকে।
"এই ছোঁড়া। কত করে তোর রাখি?"-প্রশ্ন করেন তিনি।
"এক টাকা করে বাবু।"
"পাঁচটা দে। চার টাকা নিস ক্ষণ"- বলেন ভদ্রলোক।
হাতে আর সময় নেই বেশি। আর সময় নষ্ট না করে রাখিগুলো দিয়ে দেয় পল্টু।
"এই নে পাঁচ টাকা।এক টাকা ফেরত দে।"
টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত হাঁটা শুরু করে পল্টু। কাজল কাকুর বাড়ির সামনে গিয়ে পকেট থেকে খুচরো পয়সা গুলো বের করে সে।গুনে নেয় একবার।মাত্র চব্বিশ টাকা। এই টাকাগুলো কাজলকাকুকে দিলে লাভের তিন চার টাকা হয়তো পাবে সে। টাকাগুলো কাজলবাবুকে দিতে যায় পল্টু।
"ওগুলো তুই রেখে দে পল্টু।বোনের জন্য কিছু একটা কিনে নিস।আর দেরি করিস না,যা"-বলেন কাজলবাবু।
পল্টুর চোখে তখন উঁকি দিচ্ছে আনন্দাশ্রু; খেয়াল করে ওর মাথায় হাত রাখেন কাজল বাবু। আনন্দে আত্মহারা পল্টু দৌড় দেয় রাস্তার মোড়ের বড়ো দোকানটার দিকে।বোন অনেকদিন ওই দোকানের সামনের দিকে রাখা নীল কাগজে মোড়া চকোলেট খেতে চেয়েছে ওর কাছে। পকেট থেকে ওই চব্বিশ টাকা আর আগের জমানো সাত টাকা একসাথে নেয় পল্টু।
"কাকু ওই চকোলেট তা কত দাম গো?"-শোনে পল্টু।
"বড়োটা সত্তর টাকা ।"
মন টা খারাপ হয়ে যায় পল্টুর।
"আর ওই টা?"-জিজ্ঞাসা করে সে।
"ওটা পঞ্চাশ।"-বলেন দোকানদার।
"আর ওই ছোটটা?"
"ওটা ত্রিশ।"
পয়সা গুলো একটা একটা করে গোনে পল্টু। একত্রিশ! আনন্দে ভরে ওঠে মনটা।
"ওই টা দিন কাকু।ওই ছোট টা।"-পয়সা গুলো মুঠোয় ভরে এগিয়ে দেয় দোকানদারের দিকে।
পকেটে চকোলেটটা ভরেই দৌড় দেয় বাড়ির দিকে। মনে মনে আজ ভীষণ খুশি পল্টু। এতদিনে বোনের একটা আবদার সে মেটাতে পারবে তাহলে! আলতো করে উঠোনের দরজা খোলে সে।
"না,এখনো মামী ওঠেনি তাহলে।যাক,বাঁচা গেল!"-ভেবে আশ্বস্ত হয় পল্টু। পা টিপে টিপে এগিয়ে যায় নিজের ঘরের দিকে।
কিন্তু টিয়া কোথায়! ঘরের মধ্যে তো ও নেই! দৌড়ে বেরিয়ে আসে পল্টু।চারপাশ খুঁজে কোথায় পায়না বোনকে। চিন্তায় ঘেমে ওঠে পল্টু। কোথাও না পেয়ে ঘরে এসে ধপ করে বসে পড়ে বিছানায়।
কিছুক্ষনের মধ্যে দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে টিয়া। তার হাতে সুতো দিয়ে নয়নতারা ফুলে গাঁথা একটা রাখি। নিজে হাতে বানানো।
" হাতটা দে দাদা।রাখি পড়াবো" - আদো আদো ভাষায় বলে টিয়া।
" তুই এটা নিজে বানিয়েছিস?"-শোনে পল্টু।
"হুম।"-জবাব দেয় টিয়া।
"ইশ, ছটা বেজে গেল!"-বলেই তাড়াহুড়ো করে উঠে বসে বিছানায়।পাশে এখনো ঘুমে অচেতন তার পাঁচ বছর বয়সের বোন টিয়া।তাকে না ডেকেই বিছানা ছেড়ে নেমে পড়ে পল্টু।
পল্টু চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে। তখন বোনের বয়স মাত্র তিন মাস। মাও নেই বছর দুই হলো। পল্টুর স্মৃতিপটে বাবা মায়ের স্মৃতি কিছুটা থাকলেও টিয়ার বাবার কথা কিছুই মনে নেই। মায়ের কথাও একটু আধটু মনে পড়ে টিয়ার।এখন পিতৃমাতৃহীন ভাইবোন অযত্নে মানুষ হচ্ছে মামা মামীর কাছে। পরিবর্তে অবশ্য সংসারের অনেক কাজই করতে হয় দুজনকেই।বাড়তি পাওনা মামীর মুখের অকথ্য গালিগালাজ। মামাও মামীর ভয়ে কাঠ হয়ে নীরবে দেখে চলেন সবকিছু।
আজ রাখিবন্ধন।তাই পল্টু অনেকদিন ধরেই বাজার খরচের টাকা থেকে একটু একটু করে খুচরো জমিয়ে সাত টাকা জমিয়েছিল। কিন্তু বোনকে মাত্র এই কটা টাকাই কি বা কিনে দেবে সে! তাই কাজলকাকুকে বলে কিছু কমদামি রাখি বাকিতে আনিয়ে রেখেছিল বিক্রি করবে বলে। সেগুলো নিয়ে মামা মামীর অলক্ষ্যে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে পল্টু। সাতটা টাকা মনে করে প্যান্টের পকেটে নিয়েই বেরিয়েছে সে।
"দিদি রাখি নেবে?"-এক পথচলতি কলেজছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করে পল্টু।
"কত করে?"-শোনে মেয়েটি।
"এক টাকা করে দিদি"-বলে সে।
"দুটো দাও।"
ছোট্ট পল্টুর কাছ থেকে হয়তো বা এমনিই দুটো রাখি কিনে নেয় মেয়েটি।
পল্টু এগিয়ে চলে বড় রাস্তার দিকে।আরো কিছু রাখি বিক্রি করে সে।আর মাত্র কয়েকটা রাখিই আছে তার কাছে। আরো দুটো রাখি বিক্রি হয়।রাস্তার পাশের পরোটার দোকানের ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নেয় পল্টু। ঘড়িতে তখন পৌনে সাতটা।আর দেরী করা যাবেনা। মামী ঘুম থেকে ওঠার আগেই বাসনগুলো মেজে দিতে হবে প্রতিদিনের মতন। নইলে আর রক্ষে থাকবেনা। হাঁটতে হাঁটতেই গুনে নেয় কটা রাখি বাকি আছে। আর মাত্র পাঁচটা। এগিয়ে যায় পল্টু।এক ভদ্রলোক ডাকে পল্টুকে।
"এই ছোঁড়া। কত করে তোর রাখি?"-প্রশ্ন করেন তিনি।
"এক টাকা করে বাবু।"
"পাঁচটা দে। চার টাকা নিস ক্ষণ"- বলেন ভদ্রলোক।
হাতে আর সময় নেই বেশি। আর সময় নষ্ট না করে রাখিগুলো দিয়ে দেয় পল্টু।
"এই নে পাঁচ টাকা।এক টাকা ফেরত দে।"
টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত হাঁটা শুরু করে পল্টু। কাজল কাকুর বাড়ির সামনে গিয়ে পকেট থেকে খুচরো পয়সা গুলো বের করে সে।গুনে নেয় একবার।মাত্র চব্বিশ টাকা। এই টাকাগুলো কাজলকাকুকে দিলে লাভের তিন চার টাকা হয়তো পাবে সে। টাকাগুলো কাজলবাবুকে দিতে যায় পল্টু।
"ওগুলো তুই রেখে দে পল্টু।বোনের জন্য কিছু একটা কিনে নিস।আর দেরি করিস না,যা"-বলেন কাজলবাবু।
পল্টুর চোখে তখন উঁকি দিচ্ছে আনন্দাশ্রু; খেয়াল করে ওর মাথায় হাত রাখেন কাজল বাবু। আনন্দে আত্মহারা পল্টু দৌড় দেয় রাস্তার মোড়ের বড়ো দোকানটার দিকে।বোন অনেকদিন ওই দোকানের সামনের দিকে রাখা নীল কাগজে মোড়া চকোলেট খেতে চেয়েছে ওর কাছে। পকেট থেকে ওই চব্বিশ টাকা আর আগের জমানো সাত টাকা একসাথে নেয় পল্টু।
"কাকু ওই চকোলেট তা কত দাম গো?"-শোনে পল্টু।
"বড়োটা সত্তর টাকা ।"
মন টা খারাপ হয়ে যায় পল্টুর।
"আর ওই টা?"-জিজ্ঞাসা করে সে।
"ওটা পঞ্চাশ।"-বলেন দোকানদার।
"আর ওই ছোটটা?"
"ওটা ত্রিশ।"
পয়সা গুলো একটা একটা করে গোনে পল্টু। একত্রিশ! আনন্দে ভরে ওঠে মনটা।
"ওই টা দিন কাকু।ওই ছোট টা।"-পয়সা গুলো মুঠোয় ভরে এগিয়ে দেয় দোকানদারের দিকে।
পকেটে চকোলেটটা ভরেই দৌড় দেয় বাড়ির দিকে। মনে মনে আজ ভীষণ খুশি পল্টু। এতদিনে বোনের একটা আবদার সে মেটাতে পারবে তাহলে! আলতো করে উঠোনের দরজা খোলে সে।
"না,এখনো মামী ওঠেনি তাহলে।যাক,বাঁচা গেল!"-ভেবে আশ্বস্ত হয় পল্টু। পা টিপে টিপে এগিয়ে যায় নিজের ঘরের দিকে।
কিন্তু টিয়া কোথায়! ঘরের মধ্যে তো ও নেই! দৌড়ে বেরিয়ে আসে পল্টু।চারপাশ খুঁজে কোথায় পায়না বোনকে। চিন্তায় ঘেমে ওঠে পল্টু। কোথাও না পেয়ে ঘরে এসে ধপ করে বসে পড়ে বিছানায়।
কিছুক্ষনের মধ্যে দেখে দরজায় দাঁড়িয়ে টিয়া। তার হাতে সুতো দিয়ে নয়নতারা ফুলে গাঁথা একটা রাখি। নিজে হাতে বানানো।
" হাতটা দে দাদা।রাখি পড়াবো" - আদো আদো ভাষায় বলে টিয়া।
" তুই এটা নিজে বানিয়েছিস?"-শোনে পল্টু।
"হুম।"-জবাব দেয় টিয়া।
খুশিতে হয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় পল্টু।সযত্নে রাখি বেঁধে দেয় ছোট্ট বোন তার দাদার হাতে।এরপর টিয়াকে চোখ বন্ধ করতে বলে পল্টু।পকেট থেকে লুকিয়ে চকোলেট বের করে বোনকে দেয়। চোখ খুলে আনন্দে লাফিয়ে উঠে টিয়া। তারপর জড়িয়ে ধরে দাদাকে। পল্টুর গাল বেয়ে তখন গড়িয়ে পড়ছে দুফোটা চোখের জল---আনমনে।








