Thursday, 9 November 2017

{{ আঁতেল হওয়ার সহজ উপায় }} শোভন নস্কর


কদিন আগেই পোস্ট করে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমি কেমন ওয়ান ওয়ার্ডে বলতে। দুজন দেখি লিখেছে আমি আঁতেল।  এইবার কেউ হয়ত জানতে চাইবে আঁতেল কিভাবে হওয়া যায়। সেগুলি আজ বলব ।
১. সবসময় পড়ুয়া পড়ুয়া ভাব রাখুন। এমন কিছু বইয়ের নাম করুন যা খুব কম লোকেই পড়েছে। মাঝে মাঝে বিদেশী কবি লেখকদের নাম বলুন। যেমন- নেরুদা, ব্রেখট বা গার্সিয়া মার্কেজ।
২. সব কিছু নিয়ে ব্যঙ্গ্ করবেন। ভুলেও কোন কিছুর প্রশংসা করতে যাবেন না।
৩. আঁতেলদের পলিটিক্যালি নিউট্রাল থাকার পদ্ধতি আলাদা। তাই সব পার্টিকেই গালাগাল দিন প্রান ভরে।
৪. কবিতা লেখেন? বেশ। তাতে লিঙ্গ, যোনি, ধর্ষন এই জাতীয় শব্দ দিয়ে দিন। যতটা সম্ভব পুরুষদের কলঙ্কিত দিক গুলো তুলে ধরুন কবিতার মাধ্যমে। ব্যস! অনেকটা কাজ এগিয়ে যাবে।
৫. গল্প লিখলে এমন গল্প লিখুন যাতে মানুষই কনফিউজ হয়ে যায় এটা প্রবন্ধ না গল্প? অন্তর্নিহিত মানে ছাড়া কোন গল্প লেখা যাবে না।
৬. মাঝে মাঝে বলুন, ফেসবুকে আমার 'অসাধারণ' লেখাটা চুরি হয়ে গেছে ! এতে প্রচার পাবে আরো।
৭. ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। পাঞ্জাবি হলে ভাল হয়। মাঝে মাঝে পার্টি বা কফিহাউসের ছবি দিন।
৮. মরে গেলেও ফেসবুকে কারোর মেসেজের রিপ্লাই দেবেন না। একবার রিপ্লাই দিয়েছেন তো আপনার আঁতেলগিরির র‍্যাংকিং এক ধাক্কায় কমে যাবে।
৯. ফেসবুকে কারোর কোন পোস্ট এ রিপ্লাই দিতে গেলে কখনই উৎসাহব্যঞ্জক কিছু বলবেন না বরং তার খুঁত খুজুন। আপনার বয়স ৫০ হলেও ২৫ বছরের ছেলের লেখার খুঁত খুজুন। দু একটা খিস্তিও দিতে পারেন। ওটা এখন আল্ট্রাআঁতেল ব্যাপার।
১০. ভাল চাকরী বাকরি কিছু করলে বা উঁচু জায়গায় ওঠা বসা থাকলে প্রতি মুহুর্তে সেটা অন্যকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন আর গাম্ভীর্য ধরে রাখুন।
১১. মাঝে মাঝে গোদারের সিনেমা দেখুন। ফ্রেঞ্চ সিনেমা দেখুন ব্যাপক হারে। কলকাতায় যারা গোদার দেখেছে তারা এক ধাপেই আঁতলামোর রেকর্ড করে গেছে ভাই। থ্রিলার, হরর, কমেডি সিনেমা? নৈব নৈব চ। একবার দেখেছেন তো সব পরিশ্রম জলে গেল।
এবার তোমরাই বুঝে নাও আমি আঁতেল কিনা। 

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...