Monday, 9 October 2017

নাস্তিকদের নিয়ে কথা -শোভন নস্কর


সারাজীবন নাস্তিকতা নিয়ে কম ব্যঙ্গ কম প্রশ্ন শুনিনি। বোধহয় অনেকের শুনতে হয়। ফেসবুকটা জবাব দেওয়ার ভাল প্লাটফর্ম। সেইসব বেয়াড়া প্রশ্ন ও তার উত্তর দেব এইবার। 
প্রথমেই বলে রাখা ভাল নাস্তিক হওয়াটা জন্মগত সূত্রে মানুষ পেয়ে থাকে। ঠিক যেমন ভাবে সমকামী বা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মায়। অনেকসময় ছাগলের সাথে জন্মে নিজেকে ছাগল বলে মনে হয়। তারপর রক্তের স্বাদ পেতেই বুঝতে পারে সে আসলে ছাগল নয় বাঘ। এইভাবেই জন্ম হয় একজন নাস্তিকের। প্রতি হাজারে একটা বা তারও কম। সুতরাং যা হওয়ার তাইই হয়। সমাজের কাছে তা অসহ্য হয়ে ওঠে। ঈশ্বরের কাছে বিকিয়ে দেওয়া মানুষ কখনো বুঝতেই পারে না ঈশ্বর ছাড়া একটা মানুষ বাঁচে কি করে? তাকে ঈশ্বরের কাছে মাথানত করতেই হবে। অনেকে এও ভাবে ব্যাটা হয় লুকিয়ে পুজো করে। বাইরে অন্য ভাব দেখায়। তার চিন্তাভাবনার সাথে যে শতযোজন ফারাক এটাই বুঝতে চায় না।
প্রায়ই শুনি, বড় হও তখন বুঝবে ঈশ্বর কি। বড় হলাম এখনো বুঝিনি। এখন বলে বুড়ো হও তারপর বুঝবে। মশাই আমি কোন কালেই বুঝবো না। আমার ভীতু নই। আমার বাঁচার জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাগে না। পুজো প্রণাম ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছি।
'পুজো আর্চা একটু করতে হয় তাহলেই তো সাকসেস আসবে! তোর বন্ধুদের দেখ।' কিন্তু প্রচুর আস্তিক এখন চাকরীর জন্য ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছে নবান্নের সামনে।
তুই তো নাস্তিক তা পুজোয় ঘুরিস কেন? আরে ভাই ধর্ম আর সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেখো। আমি অঞ্জলি দিয়ে প্যান্ডেলে প্যান্ডেল ঠাকুর দেখে প্রণাম করে বেড়াই না। পুজোয় বেরোই আড্ডা দিতে ঝিঙ্কু মামনি দেখে আর খেতে। ধর্মের ধার ধারি না। কিন্তু ভারত হিন্দু সংস্কৃতির দেশ। যে ধর্মের মানুষই হোক না কেন এই সংস্কৃতির অংশ। তাই সেই উৎসবের সাথে তাল মিলানো মানে ধর্ম মানছি তা নয়।
তোর হাতে তাগা কেন? ভাই ঈশ্বরের সাথে ঝামেলা করা যায় বাবা মার সাথে নয়। তারা যদি মনে করে তাগা বেঁধে আমার বিপদ তাড়াবে আর সেই মনে করে সুখী হয় তাতে আমার কি করার আছে?
এই যে মহাবিশ্ব ব্রম্ভান্ড এটা কে সৃষ্টি করেছে? কোন একটা শক্তি তো আছেই। নাহলে এসব হয়? এই বিশ্বব্রম্ভান্ড যে কেউ সৃষ্টি করেছে তা তোকে কে বলল? আর যদি কেউ সৃষ্টি করেও থাকে সেটা ঈশ্বর তা কে বলল? সে লালমুখো হনুমানও হতে পারে। কিংবা সৃষ্টি করেও টেঁসে যেতে পারে! এতদিন ধরে বেঁচে থাকলে এই বিশাল ব্রম্ভান্ডে মাত্র এইটুকখানি পৃথিবীতেই মানুষ সৃষ্টি করত নাকি? নিতান্ত বোকা না হলে আরো অন্তত গোটা পনেরো গ্রহে মানুষ রেখে দিতে পারতো । অন্তত: তার পুজো করার লোক তো বাড়ত! 

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...