২০১১ এর ২ রা এপ্রিল।
আতশবাজি আর বিশ্বকাপজয়ের ওয়াংখেড়ে সেদিন ছিল কিছু অজানা প্লট আর অদেখা চরিত্র - রংমশাল বা ফ্ল্যাশব্যাকের ঝলকানিতে উজ্জ্বল না হয়েও যারা ছিলেন স্বতন্ত্র আলোর উৎস।
তাদেরই অন্যতম সৌরভ গাঙ্গুলী। কুলসেখরাকে কিছুক্ষণ আগে লং অনের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে দেশে অকাল দিওয়ালি এনেছেন ধোনি , উৎসব আর উচ্ছ্বাসের মাঝেই চলছে পুরস্কার বিতরণী সভার প্রকাশ্য তোড়জোড়। ঠিক তখনই মাঠে পা দিলেন সৌরভ।ভাগ্যের এমনই পরিহাস ঠিক তখনই আতশবাজি জ্বলে উঠল ওয়াংখেড়ের উপর। তিনি দাঁড়িয়ে দেখতে থাকলেন , মুখে স্মিত হাসির সাথে মিশে অব্যক্ত যন্ত্রনা তখন। এই রাতটা তো আসতে পারতো ৮ বছর আগের এক জোহানেসবার্গেই। একটু দূরে যে টিমটা উচ্ছ্বাসে ভাসছে সেটা তৈরিতে তার অবদানও তো কম ছিলনা। কিসব মন্তাজ ভিড় করে আসছিল তখন। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা নিধন দিয়ে শুরু। তারপর স্টিভের অশ্বমেধের ঘোড়াকে মারা , চোখে চোখ রেখে অজি আগ্রাসনের জবাব , স্টিভকে টসের জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা থেকে লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি ওড়ানো। মাঝে নাইরোবি , শ্রীলঙ্কার মিনি বিশ্বকাপ। আর ২০০৩ বিশ্বকাপ তো রূপকথাই। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই নিউজিল্যান্ড সফরের মতো ' এয়ার পকেটে' পড়ে থাকা বিপর্যস্ত টিমের অতিমানবিক কামব্যাক। আর ঠিক তারপরই চ্যাপেলরাজের অন্ধগলিতে হারিয়ে যেতে যেতে অবিশ্বাস্য কামব্যাক যাতে বুঁদ হয়েছিল একটা জাতি। চ্যাপেল যেন 'লগান' এর ক্যাপ্টেন Russel যিনি প্রতিমুহূর্তে পদদলিত করতে চান 'ভুবনকে আর তিনি সৌরভ যেন ভুবন হয়ে লড়ছেন গোটা চম্পানীড়ের জন্যই। পারফরমেন্স বেসড প্রফেশনে ততদিন চালু হয়ে গেছে একটা ফ্রেজ "আইদার ডু এ গাঙ্গুলী অর ইউ পেরিশ।" আর মাঝের সময় ? সেটাও তো কম রোমাঞ্চকর নয়। সহবাগ ,জাহির, ভাজ্জি হয়ে যুবরাজ বা নেহরা একটা গোটা প্রজন্মই তো চেতনায় লড়াই শুষে নিয়েছে তাদের 'দাদির'-ই সস্নেহ ছত্রছায়ায়। তিনি নিজেও সচিন, রাহুল , ভিভিএসকে নিয়ে গড়েছেন অবিশ্বাস্য সব কীর্তি । নেহাত ক্যাপ্টেন হিসেবে অমানুষিক চাপ না নিতে হলে এতদিনে কেরিয়ারে জুড়ে যেত আরো হাজার পাঁচেক রান।
জীবন একটা পর্যায়ে এসে যেকোন পারফর্মারেরই সর্বোচ্চ পরীক্ষা নেয়। কামব্যাকের ইনিংসের মতোই হয়তো সেদিন শক্ত ছিল তাঁর নিজস্ব আবেগ নিয়ন্ত্রণ। বারবার ঘুরে আসছিল একটা প্রশ্ন সাফল্য কি শুধুই 'মেটিরিয়ালিস্টক' আর ভাবছিলাম অনুপমের সেই লাইনটা : "একবার যেও তুমি হেঁটে যেও হাততালিরা আর দেখো কত মানুষ দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে হাত , অটোগ্রাফ দিওও অটোগ্রাফ দিও ।"

No comments:
Post a Comment