Friday, 22 September 2017

ইচ্ছে গাছ ২/ “এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো” আকাশলীনা দে

অন্ধকার চোখ সইতে কতকটা সময় নিল, একটা মেয়ে। বুড়ো গাছটার মোটা গুঁড়িতে ঠেসান দিয়ে কোটরের হাঁ’টাতে বসে পা দোলাচ্ছে, বয়েস তো তার প্রায় আমারই মত।
অবাক হবার মত কিছু না... নিরুপমাকে আমি চিনি।
হ্যাঁ, মেয়েটা নিরুপমা... পাশের বাড়িটা ওদেরই।
নিরুপমাকে চিনি... মানে নামটুকুই জানি। আর যেটুকু শুনেছি মা’র মুখ থেকে তা বিশেষ প্রীতিকর নয়। সেটা অবশ্য নিরুপমার বাবার ব্যাপারে।
নিরুপমার বাবা সোজা বাংলায় বলতে গেলে জাকে বলে পাঁড় মাতাল... নিরুর মা পালিয়ে বেঁচেছে, তখন নিরু বড্ডই ছোট। মা তাঁর বান্ধবীদের বলছিলেন একদিন দুপুরের আড্ডায়।
মাঝে মাঝে ওদের খোলা জানলা দিয়ে নিরুর বাবার চিৎকার শোনা যায় সারা পাড়া জুড়ে। অবশ্যই অপরপ্রান্তে নিরুপমা।
মা কপালে চিবুকে বারদুই তর্জনী আর মধ্যমা ঠেকিয়ে বলত ঠাকুর! বাচ্ছা মেয়েটারে দেখো... ওই মুখপুড়ি মাগী তো ছোট মেয়েটার কপাল পুড়তে থুয়ে নিজে...
যদিও আটকাবার কোন চেষ্টাই কারোর মদ্ধে দেখা যায়নি কখনো ...
“আসো, আমার বাড়ি গিয়ে ধুয়ে নাও... অনেক রক্ত পড়ছে তো...” নিরুপমার কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ল...
আমি দ্বিতীয় কোন কথা না বাড়িয়ে ওর পিছন পিছন ওদের বাড়ির দিকে চললাম। হাঁটু থেকে কিছুটা রক্ত গড়াচ্ছিল, জ্বালাও ছিল বেশ।
ওদের বাড়িটা খুব বেশিদিনের তৈরি না... কিন্তু মনখারাপ-বিবর্ণ... যেন কারোর যত্ন না পেয়ে তার মধ্যে একটা চাপা অভিমান... কতকটা নিরুপমার মত।
নিরু রান্নাঘরে গিয়ে একটা বাটিতে জল ভরে তাতে ছেঁড়া কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে এল।
খুব আস্তে যত্ন করে পায়ের রক্তটা মুছিয়ে দিচ্ছিল, হঠাৎ সদর দরজাটা দ্রাম করে খুলল। নিরুর ফরসা মুখটা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
বাকি ঘটনা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল... নিরুপমার বাবা প্রায় ছুটে এসে ওর গালে একটা প্রকাণ্ড চড় বসাল... নিরু প্রায় ছিটকে দু’হাত দূরে গিয়ে পড়ল। তারপর আমার দিকে না তাকিয়েই বলল...এক্ষুনি বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে হতচ্ছাড়া ছেলে... নইলে...
আমি আর অতদুর শোনার জন্য দাড়িয়ে ছিলাম না বলা বাহুল্য। পায়ের ওই অবস্থা নিয়ে যতটা জোরে দৌড়ানো যায় দৌড় লাগালাম...
সেই রাতে খোলা জানলা দিয়ে ভেসে আসা শব্দগুলোকে প্রাণান্তকর চিৎকার বলাই উপযুক্ত হবে। আমি বালিশ দিয়ে প্রাণপণে কানদুটোকে চেপে ধরেছিলাম... চোখের জল বালিশ শুষে নিচ্ছিল...
ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...