Friday, 15 September 2017

ইচ্ছে গাছ - প্রথম পর্ব -আকাশলীনা দে

গল্পটা স্বীকারোক্তির আকারেই বলছি। আমি দোষের কোন কাজ করিনি… আমার দোষটা ছিল কিছুই না করা। ' ভাবনা পুরনো, কথা পুরনো, কিন্তু গল্পটা পুরনো হচ্ছে না। ভাবলে দেখি এই গল্পের শুরু যখন তখন আমার বয়স ছয় কি সাত। ' আমাদের বিশাল পুরনো আমলের বাড়ি, অনেকটা জায়গা নিয়ে, সামনে পিছনে বড় উঠোন গোয়াল দাওয়া মিলে অনেকটা। একসময়ের জমিদার বাড়ি... এখন জৌলুস হারিয়েছে। তবে সম্মান আর পয়সায় কোনদিন ক্ষয় ধরেনি। ' বেশ সুন্দর সকাল ছিল তো আমি বলটা নিয়ে পিছনের উঠানে খেলছিলাম। একা একা খেলতে ভালো তেমন লাগছিলনা কিন্তু আর কারোর দেখা নেই... নিজেই বলে লাথি মেরে নিজেই তার পেছনে আর কাহাতক ছোটা যায়, ধুত্‌। কেউ একটা আসলে... অন্যমনস্ক ভাবে লাথিটা একটু জোরেই পরে যায়, বলটা উড়ে গিয়ে বেড়ার ওপাশের বাড়ির উঠোনে। যাহ্‌! ' বেড়াটা বেশ উঁচু লম্বা, অন্তত একটা পাঁচ বছরের ছেলের জন্য তো বটেই। ওটাকে টপকাবার চিন্তা মাথায় ছিলই না। বেড়াটার একটামাত্র ফোকল আছে। একটা বিরাট পুরনো গাছ ছিল ওই বেড়াটার মাঝে।গাছটাকে অক্ষত রেখেই দুই দিক দিয়ে বেড়াটা বানানো। জানতাম না কী গাছ... তবে বাড়ি বা বেড়া যারা তৈরি করেছিলেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন এতো সুন্দর গাছটা আর যাই হোক কাটার জিনিষ না... বিচক্ষণ। ' যাইহোক, আমিও সেই গাছ আর বেড়ার মাঝের ফোঁকল গলে ওইপাশে যাবার চেষ্টা শুরু করলাম, একেবারে ৫ বছরের বাচ্চার দস্তুর। ফাঁকটা এমন কিছু বড় ছিলনা, তবে আমিও কি দমবার পাত্র! বোকার মত একগুঁয়ে ছটফটানিতে বেরিয়ে তো এলাম ঠিকই, কিন্তু একটা পুরনো জংধরা পেরেকে হাফপ্যান্টটা বেঁধে হাঁটুটা বেশ চোট খেল। জ্বলে উঠল, বেশ ছড়েছে নিশ্চয়ই... ' কোনমতে বেরিয়ে এসে মাটিতে বসে পড়লাম, হাঁটুর ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে। আর সেইসময়ই “ইস্‌! এতো রক্ত পড়ছে...” চমকে উঠলাম... কথাটা গাছের থেকে আসছে... গুঁড়ির বড় কোটরটা থেক...এই ঠাঠা রোদে যে খানটা একদলা জমাট অন্ধকার... ' ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...