Monday, 25 September 2017

ইচ্ছে গাছ ৬/ “করিও ক্ষমা” আকাশলীনা দে

কয়েকবছর পরে শেষবারের মত আমি আর নিরুপমা আমাদের ইচ্ছে গাছের নীচে বসেছিলাম। আমার পরদিন ভোরের গাড়ি। শহরের ইউনিভারসিটি।
- কালকে একদম সকালের ট্রেন ... পৌঁছে চিঠি লিখব।
- -হুম...
- গোছগাছ শেষ...
- -হুম...
- কী হুম হুম করছ নিরু... তুমি এখানে কেন পরে থাকছ... আমার সাথে কেন আসছ না?
- আমি চলে গেলে বাবাকে কে মনে করাবে যে মদ খেলে কোন রাক্ষসটা ওর উপর ভর করে!!...
- ওই লোকটার জন্য তুমি সারাজীবন...
- সারাজীবন কই? তুমি কথা দিয়েছ না আমাকে মুক্তি দেবে... আমি কিন্তু ভুলিনি... নিরুপমা হাসল... এই হাসিটার মধ্যে কেমন জানি একটা ব্যাঙ্গ মেশানো ছিল... এমনভাবে নিরুপমাকে সচরাচর দেখি নি
আমি অতটা আমল না দিয়ে বললাম
- আমিও ভুলিনি নিরু...মনে রাখব ...
তবে মনে রাখা অতটা সোজা নয়... ওইবয়েসের মন থাকে নাভির নীচে।
************************************************************************************
ইউনিভারসিটির প্রথম বছরেই আমার পরিচয় হয় কায়ার সাথে। বন্ধুমহলে এমনকি শিক্ষকমহলেও আমাদের বেশ একটা “লাভবার্ড” ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে...
তাই যখন ভার্সিটির ডিগ্রি বিতরণের দিনই আমার আর কায়ার বিয়ের কার্ড বিতরন হয় তখন কেউই তেমন কিছু অবাক হয়নি... তবে আসল কারণটা আমাদের খুব কাছের গুটিকতক বন্ধুরাই আন্দাজ করেছিল...
কায়ার প্রেগন্যান্সিটা প্ল্যানমাফিক ছিল না কিন্তু আমি ভীষণ খুশি ছিলাম...
বিয়েটা শহরেই হয়... আমরা ভয় পাচ্ছিলাম যে গ্রামে গেলে হয়ত বিয়ের আগেই কোনভাবে জানাজানি... আর তারপর অবাঞ্ছিত কিছু অশান্তি হবে... তারথেকে কায়ার মা বাবা বন্ধুরা, আমার ভার্সিটির বন্ধুরা সবাই এখানেই ছিল... আমার বাড়ির লোকজন বিয়ের দুইদিন আগে এসে হাজির হল...
সব কাজকর্ম সুমঙ্গলম সুসমাধা করে কায়াকে নিয়ে গ্রামে ফিরে গেলাম... বাবার ইচ্ছেমতই তার দিগ্রিধারি ছেলে এবার তাঁর ব্যাবসা সামলাবে...পাক্কা ৪ বছর পর বাড়ি ফিরে ।
তবে বাড়ির সামনে আসতেই একটা বড় চমক আমার জন্য অপেক্ষা করছিল ... সবাই তখন কায়াকে বরণে ব্যাস্ত...
ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...