মেয়েদের বিশ্বকাপ দেখে লাতুপুতু খাওয়া "গব্বিত" ভারতবাসীদের নিয়ে কিছু লিখবো ভেবেছিলাম। কিন্তু তার আগেই চন্দ্রিল ভটচায মহাশয় আজকে আনন্দবাজারে চাঁচাছোলা ভাষায় লিখে দিয়েছেন। আমার লেখাটা না পড়তে চাইলে চন্দ্রিলের লেখাটা পড়তে পারেন। তাতে অপেক্ষাকৃত গা কম জ্বলবে। কয়েকটা লাইন নিয়ে আজ আলোচনা করা যাক যেগুলো বিশ্বকাপের পর ফেসবুকে ছড়িয়েছে....
"মেয়েরা পুরুষের সমান"
তাই? বেশ। তাহলে পুরুষের বিশ্বকাপে ফাইনালে হারের পর বিরাটদের নিয়ে যেভাবে ক্ষোভ হয় সেটাও মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রাপ্য কারণ জেতা ম্যাচ জঘন্য ভাবে হারার মধ্যে কৃতিত্ব নেই।
"মেয়েরাও সমান তাই ওদের টাকা বাড়ানো হোক"
বেশ! তাহলে মিতালীরাও নিশ্চয় বিরাটদের মত বোর্ডকে টাকা ইনকামের সুযোগ করে দেবে। স্পোর্টস এখন বিজনেস। বিরাটদের মত চাপ মিতালীদের নিতে হয় না।
"মেয়েরা লড়াই করে এসেছে! "
আচ্ছা। তাহলে নিশ্চয় ধোনি বিরাটরা কোটায় সু্যোগ পেয়েছিল। লড়াই করে ওখানে আসতে হয়নি। বরং পুরুষদের কম্পিটিশন অনেক বেশি। কটা মেয়ে ক্রিকেট খেলে?
"মেয়েরা আমাদের গব্বিত করেছে! "
তাই কি? চাম্পিয়ন্স ট্রফি গো হারা হারের পর তো বলেননি তো যে বিরাটরা গর্বিত করেছে! মেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে সহানুভূতি দেখানোটা থামান। অমন হার কখনই গর্বের নয়।
"নারীশক্তির জয় "
মানুষকে মানুষ না ভেবে নারী ভাবা মানে লিঙ্গভেদকে প্রশ্রয় দেওয়া। এটা কোন নারী পুরুষের কম্পিটিশন ছিল না।
"আহা এই তো ভালই খেলেছে। এতদুর যে এল।"
এই কথাটা শুনে মনে হয় মেয়েরা যেন পাড়ায় খেলার মাঠে সেই পুঁচকে ছেলেটা যাকে "দুধভাত" বলে খেলানো হত। যেন ওদের কোন যোগ্যতাই নেই।
সবশেষে চন্দ্রিলের একটা অসাধারণ বক্তব্য না দিয়ে পারছি না "সবাই যদি সিমপ্যাথির খোসায় ক্রমাগত হড়কে যাও,তাহলে বোঝা যাবে, আসলে মেয়েদের সমান ভাবছিলে না, বরং নিজেকে মহৎ ভাবার খেলায় নেমেছিলে।" আমরা সবাই এই রোগে আক্রান্ত। মেয়েদের অপমান প্রাপ্য নয়। আবার বাড়তি সম্মানও।

No comments:
Post a Comment