Wednesday, 13 September 2017

ডাক্তারবাবু -শোভন নস্কর

আমাদের বাড়িটা না গ্রামে না শহরে! আদতে গ্রাম আবার মিউনিসিপালিটির আন্ডারে বলে শহর। মাইল খানেক দুরেই একটা হাট আছে। দাদু মারা যাওয়ার পর থেকে হাটের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শেষ। তবু মাঝে মাঝে যেতে হয়। কারণ কি জানো? এক ডাক্তার মানে খাতায় কলমে এক হাতুড়ে ডাক্তারের জন্যে। সেটাই বলব।
ভদ্রোলোক ছিলেন বাংলাদেশী। বছর ২০ আগে আসেন এখানে। দিনের বেলায় সাইকেল নিয়ে টুক টুক করে যান। আমার সাথে দেখা হলেই স্নেহের সুরে বলেন কি খোকা কি খবর। মনে হয় দাদুর কোন অসুখের সময় গিয়েছিলাম তার কাছে। বর্তমান কাগজ পড়তেন আর ঘরে ছিল মমতা ব্যানার্জীর ছবি। অবশ্য পরিবর্তনের ঠ্যালায় উনিও এখন পরিবর্তিত হয়ে ছবি সরিয়ে ফেলেছেন। গ্রামের হিন্দু মুসলমান সব গিয়ে ভিড় করে। কাশি সর্দি থেকে জ্বর সবই দেখেন। আশেপাশে বড় কোন ডাক্তার নেই। গেলেই দুশোটাকার ভিজিট। এইতো কদিন আগে আমার মেসোমশাই মরণাপন্ন ছিলেন তখন শোনপুকুরের এক বিখ্যাত রাশিয়া থেকে পাশ করা ( ধরপাকড় এর পর এখন আর রাশিয়া লেখেন না) ডাক্তারকে ফোন করা হল। আসেননি। তখন সাইকেল নিয়ে চলে এলেন। বসিরহাটে সামান্য আঙুল কেটে গেলেও বড় ডাক্তাররা নিজের নার্সিং হোমে ভর্তি করিয়ে দেন।
বছর দুয়েক আগে বটিতে হাত কেটে মায়ের আঙুলে ইনফেকশন হয়। বড় ডাক্তার দেখানো হল। দামি দামি ওষুধ লিখে দিল। ওষুধও খেয়ে যায় রোগও বাড়ে। ওনার কাছে বাধ্য হয়ে নিয়ে গেলাম। ওহ এই ব্যাপার বলে, নিজেই অপারেশন শুরু করে দিলেন। এক সপ্তাহতেই ওকে! স্কুলে পড়ার সময় পায়ে ঘা হয়েছিল। উনি কেটে ঠিক করে দেন। বাবার মাঝরাতে প্রবলেম হল উনাকে ফোন করতেই হাজির। একদিন ভোরবেলায় হাটতে গিয়ে বাবার মৌমাছি কামড়াল। হসপিটাল বহুদুর। উনি দিব্যি এসে ইঞ্জেকশন দিয়ে গেলেন। আমার ঠাকমা যখন ক্যান্সারের কষ্টে ছটফট করত শেষ দিকে তখন উনি এসে ঘুমের আর যন্ত্রণার ওষুধ দিয়ে যেতেন। আমার বাবা থেকে আমি সবাই আজ ওনার প্রতি প্রচন্ড শ্রদ্ধা জানাই। যখন হাতুড়ে ডাক্তার বন্ধ নিয়ে লাফালাফি হয় তখনও ওনাকে চিন্তিত দেখিনা। জিজ্ঞেস করলে বলেন, "আরে খোকা ওরা আবার কি করবে? আমি না থাকলে এরা যাবে কোথায়? এরাই তো আসবে আমার কাছে। "
হ্যাঁ, হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য প্রাণ গেছে মানুষের তেমনই বহু প্রান তারাই বাঁচায়। ওই পাশ করা ডাক্তারদের থেকে বেশি।

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...