Tuesday, 19 September 2017

বাঙালির বিয়ে ! -শোভন নস্কর

হ্যাঁ তো যেটা বলছিলুম আর কি।  কাল বিয়েতে গেছিলুম।  দিন দিন একটা উপলব্ধি হচ্ছে যে বিয়েতে আসা মানে একটা বাজে সময় কাটানো।  বন্ধুবান্ধব থাকলে তাও শান্তি। কিন্তু অন্যসময়?

  কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না।  ঘরের কোনায় গিয়ে চেয়ারে বসে মোবাইল টিপছ ব্যাস কোত্থেকে একজন এসে 'দাদা একটু সরে যাবেন? ' পকোড়া খেতে গিয়ে দেখলেন লাইন পকোড়া পেলেন তো কাঠি নেই কাঠি আছে তো কফি তে ভিড়।  লোভ লাগলেও সামলে। 

      আরো আছে,  অন্যতম বিরক্তকর পার্ট হল হ্যালোজেন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যামেরাম্যান।  গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি তার মধ্যে উনি হাজির।  খেতে বসেও শান্তি নেই সেখানেও একই কেস।

      খাওয়াটা তো সেরা জায়গা।  ১০টা থেকে ১১টা খাওয়ার টেবিলে মিউজিকাল চেয়ার চলে।  বুভুক্ষু মানুষের তখন খাদ্যের দরকার।  "দাদা আপনি উঠলেই সিটটা আমাকে দেবেন হেঁ হেঁ হেঁ। " তখন আইসক্রিম হাতে নিয়ে আমি পগার পার।  

     সবথেকে রাগ তো সেইসময় হয় যখন দেখি ৫০ বছরেও খোঁজ না নেওয়া মানুষ এসে বলে।  "কি খবর।  কি করিস আজকাল?"  আরে যদি কিছু না করি তো তুমি জব দেবে নাকি? কিছু বয়স্ক মহিলা আছে দেখলেই,  " আরে কত বড় হয়ে গেছিস। চেনাই যাচ্ছে না!  " নাহ সারাজীবন ছোটই থাকবো।  চিনবে কি করে?  কবে খবর নিয়েছেন?  

      আরো আছে,  বর যদি আসে তাহলে "বড় এসেছে বড় এসেছে।  " বলে ন্যাকামি শুরু।  কেন বাপু?  সে কোন মহারাজ?  কোন কৃতিত্বের কাজ করেছে?  আর বর তো আসবেই এতে লাফানোর কি আছে?  যদি না আসতো তাহলে নাহয় একটা কথা ছিল।   তারপর গাড়ি থেকে নামলেই যে যার ক্যামেরা মোবাইল নিয়ে ঝলকানি দিয়েই চলেছে!  ভাবটা এমন যেন রাষ্ট্রপতি নামছেন! কত্ত আর লিখব!    😖😖😫😫

No comments:

Post a Comment

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...