Tuesday, 12 September 2017

রহস্যভেদ -শোভন নস্কর


আমি থাকি বসিরহাট নামে একটা মফস্বল শহরে।  কলকাতার অতি আধুনিকতা এখনো এখানে 
ছুতে পারেনি ।  আবার গিজগিজ করে বাড়ছে মানুষজন ঘরবাড়ি।  ঘটনাটা বছর দুয়েক আগের 
। জানুয়ারির কনকনে ঠান্ডা তারওপর সুর্যও ওঠেনি।   আমাদের আড্ডা অবশ্য কোনদিন 
কামাই যেত না।  অর্নব দা দের বাড়ি সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে ৮টা  তুখোড় আড্ডা চলত। 
শহরের একদম শেষে ছিল ওই বাড়িটা।  একটু লোকজন কম।  আমরা সব বিভিন্ন বয়সের হলেও 
সবাই বন্ধুই ছিলাম।  সেদিন শমিকদা আসতে দেরি করছিল ।  দেরিতে এসে একটা সিগারেট 
চেয়ে নিল সোমনাথের কাছ থেকে ।  তারপর একটা বড় টান দিয়ে দেওয়ালে হেলান দিয়ে 
বলল,  নাহ আর এখানে থাকা যায় না !
আমরা ওর বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাবটা লক্ষ্য করছিলাম ।  
ভুরু কুঁচকে বললাম,  মানে?
-মানেটা বুঝলি না?  সল্টলেকে যে বাড়িটা আছে সেখানে ফুটে যাব ।
আমাদের মাথায় যেন বিনা মেঘে বাজ পড়ল ।  এমনিতেই অনেকেই কলকাতামুখী হয়ে যাওয়ার 
আমাদের গ্রুপটা কমে আট থেকে পাঁচে নেমে এসেছে।  শমিকদা চলে গেলে চার হবে।
অভিষেক সবথেকে ছোট কিন্তু অনেক কম কথা বলে।  সেও তেড়েফুঁড়ে উঠে বলল কেন গো 
শমীকদা?   বৌদি চা নিয়ে এসেছিল সেও উৎসুক ভাবে তাকিয়ে রইল।  অর্নবদা সবথেকে 
সিনিয়র বছর পঁয়ত্রিশ বয়স ।  বলল, কি রে শমীক কি হয়েছে রে?
-আরে বুঝলে না?  আমি অফিসে গেলে নবনীতা একা থাকে।  সেফ না।  দিনকাল ভাল না।  
তাই ভাবছি বাবা মার ওখানে চলে যাব।  আমার একটু অফিস যেতে দেরি হবে ঠিকই কিন্তু 
ও একটা কোম্পানি পাবে ।
ব্যাপারটা ঠিক হজম হল না আমাদের ।  নবনীতা তো এইভাবে থাকত।  হটাৎ কি হল?  
যাইহোক নবনীতা হল শমীকদার বউ কিন্তু আমাদের বৌদি না বরং বন্ধুর মত ।
এদিকে বৌদি বলে উঠল,  আরে শমীক তুমি তো ওকে অফিস যাওয়ার পথে আমাদের বাড়িতে 
নামিয়ে যেতে পারত।
আমরা সবাই বললাম,  হ্যাঁ হ্যাঁ রাইট।  বৌদি ঠিক বলেছে।       আসলে আমরা সবাই 
যেভাবে হোক শমীকদা কে আটকাতে চাইছিলাম  ।
শমীকদা সিগারেট টা আস্ট্রে তে রেখে দিয়ে একটু ইতস্তত করে বলল,  ব্যাপারটা 
তোমরা বুঝতে পারছনা বৌদি । অন্য একটা প্রবলেম।  তোমরা কেউ বুঝবে না।  
হাসাহাসিও করতে পার ।
আমরা সবাই উৎসুক হয়ে বললাম,  কি হয়েছে কি হয়েছে?  
বাইরে তখন প্রায় পৌনে আটটা  ।  শীতকালের রাত।  কনকনে ঠান্ডায় বাইরের রাস্তাঘাট 
প্রায় ফাঁকা।  
শালটা ভাল করে গায়ে জড়িয়ে বলল।  তোরা সবাই জানিস আমাদের দুতলা বাড়িটা বেশ 
পুরোনো।  বাবা মা চলে যাওয়ার পর একাই থাকি দুজনে ওপরের ঘরে ।  সপ্তাহ দুয়েক 
আগের ঘটনা ।  নবনীতা সকালে উঠে বলল রাতে নাকি ছাদে ধুপধাপ করে আওয়াজ হয়।  আমি 
তো হেসেই অস্থির।  যদিও আমি ঘুমালে কোন সাড় থাকে না।  পরদিন আবার বলল।  তোরা 
জানিসই আমি ওসবে একদমই বিশ্বাস করি না।  একদিন নবনীতা জোর করে জাগিয়ে রাখল ।   
বৌদির দিকে তাকিয়ে বলল,  বউদি রাত তখন প্রায় দুটো হবে দেখি ছাদে ধুপধাপ আওয়াজ 
একটা নির্দিষ্ট গতি তে চলছে সেই আওয়াজ।  মাঝে মাঝে আস্তে হচ্ছে।  সেটা কোন 
মানুষের দ্বারাই হতে পারে।  কোন পশু পারবে না। টর্চ নিয়ে ওপরে গেলাম।  দেখি 
কিছু নেই।  পরদিনও কিছু পেলাম না। কিন্তু ছাদে একবার গেলে আর আওয়াজ  পাইনা। 
তারপর রাতের ঘুম প্রায় শেষ ।  প্রতি রাতে অপেক্ষা করতাম কখন আওয়াজ হবে।  এখন 
তো ওর দিনে থাকতেও ভয় লাগে ।  এসব তোমাদের বললে হাসাহাসি করবে তাই আর বলিনি।  
কিন্তু যা নিজের চোখে দেখছি তা কি করে অবিশ্বাস করি বল?
অর্নব দা বলল, হুম প্রানী না হতেও তো পারে।  ধর কিছু বাতাস আটকে আওয়াজ হচ্ছে।
- উ হু তোমরা বুঝবে না।  আমি সব চেক করেছি।  কোথা থেকে হচ্ছে বুঝতেই পারছিনা।  
নবনীতা তো ভুত ভুত করেই মাথা খারাপ করছে।   ওকে,  আজ উঠলাম ও একা আছে।

শমীকদা চলে যাওয়ার পর সবাই চিন্তায় পড়লাম।  সোমনাথ মাঝখান থেকে বলে উঠল, ধুর 
যত্তসব ফালতু গল্প দিয়ে গেল ।
অভিষেক ভাবুক হয়ে গেল ,  আর একটা মেম্বার কমে গেল। 
অর্নবদা বালিশে হেলান দিয়ে কি একটা ভাবছিল।  বলল, হুম মেম্বারটা অযথা কমে 
যাবে?  আওয়াজ টা তো হচ্ছে কোন না কোন কিছু থেকে ।  রহস্যভেদ করতে হবে বুঝলি !
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,  শোভন,  কাল রাত থেকে তোর আর আমার রাত্রের 
আস্তানা শমিক এর বাড়ি।  
বৌদি হটাৎ বলল,  তুমি আবার এই বয়সে বাচ্চাদের মতন -
-বাচ্চা না,  একটা রহস্য ভেদ করতে যাচ্ছি।  ব্যোমকেশ ফেলুদারা বাচ্চা ছিল নাকি?
আমি তেতে উঠে বললাম,  ওকে বস কাল তোমার সাগরেদ হয়ে তবে ফিল্ডে নামছি । 

   পরদিন ঠিক রাত আটটায় গিয়ে হাজির হলাম শমীকদার বাড়ি ।  দুতলা বাড়ি আগেই 
বলেছি ।  বাড়িটার বয়স বছর পঞ্চাশ তো হবেই।  তবে আশে পাশে অনেক ঘরবাড়ি আছে ।  
অর্নব দা দের মতন অত ফাঁকা ফাঁকা না ।  শমীকদা যথারীতি 'ওয়েলকাম ওয়েলকাম ' বলে 
ঘরে নিয়ে গেল। নবনীতাও এল।  বহুদিন পর ওর সাথে দেখা একটু আড্ডাও হল। রাত দশটার 
সময় নবনীতা মাংস রুটি নিয়ে এসে  হাজির। আড্ডাও দিলাম। খাওয়ার মাঝেই নবনীতা 
বলল, তোমরা এসব করে  ফালতু সময় নষ্ট করছ অর্নবদা।  কিচ্ছু পাবে না।  শমীকও 
পাইনি ।  
অর্নবদা হেসে উঠে বলল,  না পেলে না পাব  কিন্তু তোর হাতের মাংস রুটিটা তো 
খাওয়া হল।
আমি একটা মাংসের টুকরো মুখে দিয়ে বললাম,  যা বলেছ অর্নব দা।  জবাব নেই।  
   খাওয়া শেষ করে ওঠার পর শমীকদা আড়ালে বলল, নবনীতা এই কদিন ঘুমের ওষুধ 
খাচ্ছে।  রাতে ও ঘুমাবে আমি ঘুম ভাঙলে চলে আসব।  
-ঠিক আছে।
ওরা চলে গেল ওদের ঘরে।  মাঝে একটা বড় বারান্দা আছে ওটা পার করে ওদের ঘর।  
আমাদের ঘরটা অবশ্য বেশ ভাল রাস্তার দিক।  শীতের রাতে রাস্তায় লোক অনেক কম।  
বারান্দার মাঝখান দিয়েই সিঁড়িটা উঠেছে ।   অর্নবদা কে বললাম,  এত লোকজনের মাঝে 
ভুত বাবাজি এখানে কি করতে আসবে গো?  তোমাদের বাড়ির ছাদেই তো লাফাতে পারত ।  
তাহলে কয়েকটা ছবি তুলে রাখতে পারতুম।
-মস্করা করিস না শোভন।  এরা কেউ তো মিথ্যা বলছে না।  আবার ভূত টুত ও কিসসু নেই 
এটা সিওর ।  কিন্তু মাল টা যে কি! শোন, দুজনের একসাথে জেগে লাভ নেই।  আগে 
ঘন্টা তিনেক তুই ঘুমিয়ে নে তারপর আমি ।

দেড়টা পর্যন্ত ঘুমালাম ।  তারপর অর্নবদা ঘুমালো ।  আমি মোবাইল ঘাঁটতে লাগলাম। 
রাত তখন প্রায় কাঁটায় কাঁটায় দুটো ।  হটাৎ ছাদের ওপর ধুপধাপ।  একদম নির্দিষ্ট 
গতিতে ।  আমি অর্নবদা কে ডাকলাম,  ও ও অর্নবদা?  
এই শীতের গভীর রাতে একটু ভয় ভয় ও করছিল।  
- কি কি হয়েছে?
-ওই আওয়াজ টা।
দুজনে টর্চ লাইট নিয়ে ওপরে যেতে লাগলাম।  শমীকদাও দেখি হাজির।  ওপরে উঠে 
অবাক!  কোন কিচ্ছুই ছাদে নেই।  আওয়াজও নেই ।  এমন কিছুই পেলাম না যার থেকে 
আওয়াজ হতে পারে।  একদম ফাঁকা ছাদ।
শমীকদা বলল, আমি বলেছিলাম কিছুই পাবে না।  
-হুম।    অর্নবদার মাথায় তখন চিন্তার ভাঁজ।  আওয়াজ হয়েছে এটা সিওর কিন্তু কোথা 
থেকে!  

পরদিন আবার একই ভাবে থাকলাম।  অর্নবদার চোয়াল ক্রমশ শক্ত হয়ে যাচ্ছে।  যথারীতি 
রাতে কিছুই দেখলাম না।

এবার তৃতীয় রাত।  যে রাত আমার জীবনের অন্যতম ভয়ংকর রাত হিসাবে চিহ্নিত থাকবে।  
আমাদের জেদ চেপে গিয়েছিল।  কোন কুলকিনারাই পাচ্ছিলাম না ।  হয়ত ব্যোমকেশও পারত 
না ।  এক প্যাকেট সিগারেট শেষ হয়ে গিয়েছিল রাতে।  আগের দু রাত ঠিকঠাক ঘুমায়নি 
তবু কোন অজানা অস্বস্তিতে দুজনেই জেগে ।  অর্নবদা সিগারেটের শেষ টান দিয়ে 
বলল,  আজ এর যবনিকা পতন করিয়েই ছাড়ব।  
আমার হটাৎ বললাম, আচ্ছা অর্নবদা তুমি লক্ষ্য করেছ ছাদে ওঠার সময় সিড়িতে ভালই 
আওয়াজ হয় যেটা ছাদ থেকে শোনা যায়?
-হুম
- আমার মনে হয় সেই আওয়াজেই সে পালায় ।
-ঠিক বলেছিস।  আজ ঠিক ছাদের লাস্ট সিঁড়িটার পিছনেই লুকিয়ে থাকব ।

রাত একটা নাগাদ সেখানে বসে রইলাম ।  যে পরিমান মশার কামড় খেয়েছিলাম ওই শীতে 
তাতে ডেংগু ম্যালেরিয়া হয়ে যেতে  পারত।  কৃষ্ণপক্ষের ক্ষীন চাঁদ তখন আকাশে ।  
সাথে প্রচন্ড শীত আর কুয়াশা। ছাদের অন্যপ্রান্ত দেখাও মুশকিল।  দুজনে জ্যাকেট 
আর শাল মুড়ি দিয়েও ঠকঠক করে কাঁপছি ।  রাত ঠিক দুটো বাজতে মিনিট ছয়েক ।  
কুয়াশার মধ্যে কিছু একটা নড়াচড়া দেখলাম ।  কেউউ টর্চ জ্বাললাম না।  পা টিপে 
টিপে এগোলাম।  দেখি সম্ভবত দুটো কোন প্রানী হাত ধরে ধরে গোল হয়ে ঘুরছে আর 
নাচছে।  হটাৎ দেখি তাদের মধ্যে একটা উধাও ।  অন্যটা মুহুর্তের মধ্যে আমাদের 
দিকে লাফিয়ে আসতে লাগল।  আমরা চমকে উঠলাম ।  দুজনেই টর্চ নিয়ে তার মুখে মারলাম 
।  হে ভগবান এ কি!! এ কোন বিধাতার সৃষ্টি ?  যা দেখে পুরো পাথর হয়ে গেলাম।  
একটা অর্ধমানবের মত প্রানী।  চোখে মনি নেই।  সাদা অংশ টা লাল।  কান দুটো 
বাদুরের মত।  রক্তাক্ত লম্বা জিভটা ঝুলে রয়েছে ।  পা হাত মানুষের মত না । 
পিছনে ডানা।  সে বিশ্রী কুৎসিত ভয়ংকর  শরীর হয়ত কোন মানুষ আজ অবধি দেখেনি ।  
চোখে আলো পড়তেই সে অতি তীব্র বিশ্রী আওয়াজ করে তার শিরা উপাশিরা গুলো ফুলিয়ে 
ডানাটা মেলে ধরল।  তার সাদা দেহে লাল লাল শিরা গুলো ফুটে উঠল যেন কোন চামড়াহীন 
প্রানী।  ঝটপট করতে করতে ক্ষীন  চাঁদের ওপর দিয়ে বহুদুরে মিলিয়ে গেল।  কুয়াশায় 
দেখতে পেলাম না।   আমরা পাথরের মত দাঁড়িয়ে চিল্লিয়ে যাচ্ছিলাম।  শমীকদা এর 
মধ্যে নীচ থেকে উঠে এসেছে।  কিছুক্ষন পর সকাল হল ।  আমরা অবশ্য ওকে  কিছুই 
বলিনি কি দেখেছিলাম রাতে । কাউকেই বলিনি।  আজ দু বছর পর তোমাদের বললাম ।  শুধু 
যাওয়ার আগে অর্নবদা শমীকদার কাঁধে হাত রেখে বলল,   তোকে মিস করব ।  
শমীকদা এখন সল্টলেকবাসী ।  সেই রাতে যা দেখেছিলাম তা আজো ভাবি।  ওটা কি ভুত 
ছিল?  কোন অজানা প্রানী?  না কোন গ্রহান্তরের মানুষ?  হয়ত আবার কোন এক বাড়িতে 
নিস্তব্ধ  শীতের রাতে কুয়াশায় ক্ষীন চাঁদের আলোয় প্রেয়সীর সাথে নাচছে সে । 


 BUY THIS ELECTRONIC PRODUCT FROM AMAZON WITH THIS LINK AND GET A GREAT DISCOUNT !   J
                                                                             CANNON  DSLR  CAMERA (CHEAP PRICE) http://amzn.to/2lgAjPx
                                                                              REDMI  4  http://amzn.to/2yIY9sZ  (32gb) , http://amzn.to/2i2oRlG (64gb)
                                                                              SAMSUNG J3  http://amzn.to/2z6oSjR
                                                                              SAMSUNG  J7  http://amzn.to/2yODyDa
                                                                              SENNHEISER HEADPHON (BEST HEADPHONE)  http://amzn.to/2ld0Vku
                                                                              SAMSUNG EVO 32GB MEMORY CARD http://amzn.to/2z5HeS1
                                                                              APPLE IPHONE 8 (GREAT DISCOUNT!)  http://amzn.to/2leBuiz

                                                                              HYBRID SIM ADOPTER (NEED FOR EVERYONE !)  http://amzn.to/2gI3kT0

3 comments:

  1. এটা ফেসবুকের সৌজন্যে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এখানে এটা প্রথম গল্প।
    আরও নতুন নতুন ব্লগ এর অপেক্ষায় রইলাম।

    ReplyDelete
  2. নতুন গল্প এর অপেক্ষায় রইলাম।

    ReplyDelete
  3. somnath ব্লগে আরেকটা গল্প আছে

    ReplyDelete

সেরা পোস্ট

সেই রাতটা! (পুরো গল্প) শোভন নস্কর

- হ্যালো? সমীর ? বল ভাই কেমন আছিস? ফোনেই পাওয়া যায় না তোকে ! - হ্যাঁ এখন একটু ব্যস্ত থাকি আজকাল । বাবা ব্যবসায় ঢুকিয়ে দিয়েছে । - ভালো ...